Featured Posts
Windows
Google
Gadgets
Apple
Recent Articles

বঙ্গবর্ষে দানব বুলেশ্বর আগমন সংবাদ

রাজা জনার্দন করজোরে হুটাহুট শব্দবাণ নিক্ষেপ করিয়া হুতোম পন্ডিতকে স্মরণ করিয়া কহিলেন, হে পন্ডিতকূলশ্রেষ্ঠ সর্বজ্ঞ দশালোক পরিব্রাজক হুতোম, অদ্য আপনার নিকট বঙ্গবর্ষের দানবাগমন সংবাদ শ্রবণ করিতে অভিলাষ করিতেছি। তৎক্ষণাৎ অন্ধকার বিদীর্ণ করিয়া তুষারশুভ্র পক্ষবিস্তার করিয়া তরঙ্গরাশি বিজিত ঋষিরাজ পন্ডিত হুতোম জনার্দনর[...]

23 Jan 2013 | 1 commentsView Post

বঙ্গবর্ষে বিধাতা ক্ষেন্তিপিসিরূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন

"হে পন্ডিত হুতোম, ক্ষেন্তিপিসি কে ছিলেন? তিনি বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলকে কি উপায়ে দুখসাগরে নিক্ষিপ্ত করিয়াছিলেন? কেনই বা বঙ্গবর্ষ কন্টকতীর্থ খ্যাতিপ্রাপ্ত হইয়াছিল?" এই বলিয়া রাজা জনার্দন করদ্বয় একত্রিত করিয়া দশাঙ্গুলি মুখগহ্বরে স্থাপনা করিয়া প্রবল শক্তিদ্বারা উদর হইতে বাযুবেগ ঊর্ধ্বগতি করিলে হুটাহুট শব্দবাণ নিক্ষিপ[...]

02 Apr 2012 | 0 commentsView Post

বঙ্গবর্ষে চক্রান্তাসুরের সমাগমন কথা

“হে সর্বজ্ঞানাধিপতি পন্ডিত হুতোম, অদ্য আপনি আমাদিগের সভাস্থলে সমুপস্থিত হইয়া চক্রান্তাসুর চরিত্র বর্ণনা করিয়া আমাদিগকে জ্ঞানলব্ধ করুন। কি কারণে মহারাণী চক্রান্তাসুরের ভয়ে ভীত থাকিলেও প্রজাগণের নিকট তিনি কৌতুকোপাদান হইয়াছিলেন?” যেমন বিন্দুসম জলরাশি একত্রিত হইয়া সিন্ধুরূপ ধারণ করে তদ্রূপ কিঞ্চিত জ্ঞানাহরণ করিয়া জ্[...]

05 Mar 2012 | 0 commentsView Post

গণিতশাস্ত্র অজ্ঞ মহারাণী মমতা

হে হুতোম পন্ডিত, আপনি আমাদিগের নিকট আবির্ভূত হইয়া মহারাণী মমতার কাব্যবিন্যাস করিয়া কৌতুকরসে আমাদিগকে সিক্ত করিয়াছেন। অদ্য আমাদিগের মানসপটলে আবির্ভূত হইয়া আপনি এই পক্ষকালের কৌতুক বর্ণনা করিয়া আমাদিগকে আনন্দ প্রদান করুন। কি কারণে প্রজাগণ কৌতুক পাইয়াও দুঃখে জীবনযাপন করিত? এই বলিয়া রাজা জনার্দন চক্ষু বিস্ফারিত করি[...]

22 Jan 2012 | 0 commentsView Post

অবিবেচক রাণী মমতা কাকেশ্বর রোগগ্রস্ত হইয়াছিলেন

হে পন্ডিত হুতোম, আপনি সর্বকালবেত্তা। আপনি সর্বলোকগামী মহাপুরুষ। আপনি আমাদিগের কৌতূহলের একমাত্র নিবারক হইয়া আবির্ভূত হইয়া পুরাকালের ঘটনাবলীর বর্ণনা দ্বারা অহরহ আমাদিগকে মুগ্ধ করিয়াছেন। অদ্য আপনার নিকট পরিশ্রুত হইতে চাই, কি কারণে মহারাণী মমতাকে কাকেশ্বর রোগ গ্রাস করিয়াছে এইরূপ কথিত ছিল? প্রশ্নপর্বের ক্ষণকাল[...]

25 Dec 2011 | 0 commentsView Post

বঙ্গবর্ষে বিধাতা ক্ষেন্তিপিসিরূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন


"হে পন্ডিত হুতোম, ক্ষেন্তিপিসি কে ছিলেন? তিনি বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলকে কি উপায়ে দুখসাগরে নিক্ষিপ্ত করিয়াছিলেন? কেনই বা বঙ্গবর্ষ কন্টকতীর্থ খ্যাতিপ্রাপ্ত হইয়াছিল?"

এই বলিয়া রাজা জনার্দন করদ্বয় একত্রিত করিয়া দশাঙ্গুলি মুখগহ্বরে স্থাপনা করিয়া প্রবল শক্তিদ্বারা উদর হইতে বাযুবেগ ঊর্ধ্বগতি করিলে হুটাহুট শব্দবাণ নিক্ষিপ্ত হইল। সুতীক্ষ্ণ শব্দবাণ শ্রবণ করিয়া পন্ডিত হুতোম তাঁহার শুভ্রপক্ষ বিস্তারপূর্বক উড্ডীন হইয়া রাজা জনার্দনের সভাগারে আগন্তুকের ন্যায় আবির্ভূত হইলেন। সভাসদগণ পন্ডিত হুতোমের উদ্দেশ্যে প্রণাম জ্ঞাপন করিলেন।

“হে রাজা জনার্দন, পুরাকালে ক্ষেন্তিপিসি নাম্নী এক রাণী ক্ষণকাল বঙ্গবর্ষের শাসনভার অর্জন করিয়াছিলেন। অবতার ক্ষেন্তিপিসি উক্ত বর্ষে অষ্টোত্তরশত নামে পূজিত হইতেন। ক্ষমতাময়ী, মূর্খমন্ত্রী, ক্ষীণবুদ্ধি, স্বল্পমতি, ছলপটু, অস্থিরমতি, মিথ্যাবাদিনী, কুমতি, স্বৈরাচারিণী, কটুবাদিনী, ছদ্মরূপা, যুক্তিহীনা, কুযুক্তিবাদিনী, বদরাগিণী, সজ্জাবিনোদিনী ইত্যাদি নামধারণ করিয়া তিনি বঙ্গবর্ষে বিচরণ করিতেন। ক্ষেন্তিপিসির অঙ্গুলিহেলনে বৃক্ষরাজি পত্রমোচন করিত। কথিত আছে তাঁহার আদেশপ্রাপ্ত না হইলে বঙ্গবর্ষে সূর্যোদয় সম্ভব হইত না। প্রত্যহ প্রভাতকালে ক্ষেন্তিপিসির বন্দনা করিয়া সূর্যদেব নতমস্তকে লজ্জিত হইয়া পূর্বদিক রাঙা করিতেন। ক্ষেন্তিপিসির প্রবল পরাক্রম অবলোকন করিয়া বঙ্গবর্ষের প্রজাগণ দিনান্তে তাঁহাকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম জ্ঞাপন করিয়া কালমোচন করিতেন।” 

“হে জ্ঞানপিপাসু জনার্দন, পরাক্রমশালিনী ক্ষেন্তিপিসি ধরাকে সরা জ্ঞান করিতেন। তাঁহার আদেশে একদা বঙ্গবর্ষের সমগ্র পাঠাগার হইতে ক্ষেন্তিপিসির সমালোচক সমগ্র সংবাদপত্ররাজি নিষিদ্ধ হইয়াছিল। সংবাদপত্র পাঠ অপরাধ - এইরূপ ধর্মাদেশপ্রাপ্ত হইয়া বঙ্গবর্ষের পাঠককূল যারপরনাই আশ্চর্যচকিত হইয়াছিলেন। কথিত আছে, বঙ্গবর্ষের প্রজাগণকে অন্ধকূপে নিক্ষিপ্ত করিয়া কূপমন্ডুকে পরিবর্তিত করিবার অভিপ্রায়ে এইরূপ নির্দেশিত হইয়াছিল। ক্ষেন্তিপিসির শাসনকালে তাঁহার সমালোচকদের অন্ধকূপবাসের সাজাপ্রাপ্তি হইত। যেসকল সংবাদপত্র তাঁহার বন্দনা করিত তাহারা উচ্চমর্যাদাপ্রাপ্ত হইত। ক্ষেন্তিপিসির চাটুকার পারিষদবর্গদ্বারা প্রচারিত ক্ষেন্তিপিসির বন্দনাসমৃদ্ধ সংবাদপত্রসকল বঙ্গবর্ষে পাঠদূষণ সংক্রমণ করিয়াছিল। ইহাতে প্রজাগণের অন্ধত্ব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছিল। যেরূপ কূপমন্ডুক স্বীয়দৃষ্ট মেঘরাশি ও আকাশ অবলোকন করিয়া খগোলের সীমাঙ্কন করিত, তদ্রূপ ক্ষেন্তিপিসি বিবিধ সংবাদপত্রপাঠ নিষিদ্ধ করিয়া বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলের জ্ঞানভান্ডারের সীমাঙ্কন করিবার উদ্যোগ লইয়াছিলেন। বিশিষ্ট প্রজাসকল যারপরনাই উদ্বেগ প্রকাশ করিলেও ক্ষেন্তিপিসির কোপভাজক হইবার অনভিপ্রায়ে প্রতিবাদ করিতেন না। সাধারণ প্রজাসকল প্রতিবাদ করিলেও স্বৈরাচারিণী ক্ষেন্তিপিসি কর্ণপাত করিতেন না।” 

“হে সুস্থমতি জনার্দন, পুরাকালে স্বয়ং বিধাতা বঙ্গবর্ষে ক্ষেন্তিপিসির উপর ভর করিয়া ভড়ং করিতেন। যেমন বিধাতার বিধান অবমাননা করিলে পাপকর্ম হইত, তদ্রূপ ক্ষেন্তিপিসির ভড়ং-এর সমালোচনা করিলে সাজাপ্রাপ্তির বিধান শিরোধার্য হইত। বদরাগিণী ক্ষেন্তিপিসি তৎক্ষণাৎ বিধি লেখনের দ্বারা তাঁহার সমালোচকদের বিধি বহির্ভূত কর্মে দোষী সাব্যস্ত করিতেন। তাঁহার শাসনকালে নিত্যনতুন বিধান বঙ্গবর্ষকে কন্টকময় করিয়াছিল। তাঁহার কুশাসনকালে বঙ্গবর্ষ কন্টকতীর্থ নামে প্রসিদ্ধ হইয়াছিল। ক্ষেন্তিপিসির বিধান বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলকে কন্টকতীর্থ গমনে বাধ্য করিত। কথিত আছে, তাঁহার আমলে শিল্পবিধান অবলোকন করিয়া শিল্পীরা রাজ্যত্যাগ করিত। তাঁহার শ্রমিকবিধান শ্রমিকবর্গকে ক্ষিপ্ত করিত। ক্ষীনমতি যুক্তিহীনা ক্ষেন্তিপিসির রাজত্বকালে সহস্রাধিক বিধি বিধান সমগ্র প্রজাসকলকে দুখসাগরে নিমজ্জিত করিয়াছিল।” 

হে জননৃপ জনার্দন, আপনি জনসেবার উদ্দেশ্যে আপনার পরিভাষ্যদ্বারা বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলকে কালগহ্বর হইতে নিষ্কাশনের উপায় সন্ধান করুন। এই বলিয়া পন্ডিত হুতোম নিঃশব্দে বায়ুরথে ভর করিয়া সভাস্থল ত্যাগ করিলেন। রাজা জনার্দন নতমস্তকে হুতোমকে বিদায় জ্ঞাপন করিয়া রাজকার্যে মনোনিবেশ করিলেন।

Share and Enjoy:

0 comments for this post

Leave a reply

We will keep You Updated...
Sign up to receive breaking news
as well as receive other site updates!
Subscribe via RSS Feed subscribe to feeds
Sponsors
Template By SpicyTrickS.comSpicytricks.comspicytricks.com
Template By SpicyTrickS.comspicytricks.comSpicytricks.com
Popular Posts
Recent Stories
  • বঙ্গবর্ষে দানব বুলেশ্বর আগমন সংবাদ

    রাজা জনার্দন করজোরে হুটাহুট শব্দবাণ নিক্ষেপ করিয়া হুতোম পন্ডিতকে স্মরণ করিয়া কহিলেন, হে পন্ডিতকূলশ্রেষ্ঠ সর্বজ্ঞ দশালোক পরিব্রাজক হুতোম, অদ্য আপনার নিকট বঙ্গবর্ষের দানবাগমন সংবাদ শ্রবণ করিতে অভিলাষ করিতেছি। তৎক্ষণাৎ অন্ধকার বিদীর্ণ করিয়া তুষারশুভ্র পক্ষবিস্তার করিয়া তরঙ্গরাশি বিজিত ঋষিরাজ পন্ডিত হুতোম জনার্দনর[...]

  • বঙ্গবর্ষে বিধাতা ক্ষেন্তিপিসিরূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন

    "হে পন্ডিত হুতোম, ক্ষেন্তিপিসি কে ছিলেন? তিনি বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলকে কি উপায়ে দুখসাগরে নিক্ষিপ্ত করিয়াছিলেন? কেনই বা বঙ্গবর্ষ কন্টকতীর্থ খ্যাতিপ্রাপ্ত হইয়াছিল?" এই বলিয়া রাজা জনার্দন করদ্বয় একত্রিত করিয়া দশাঙ্গুলি মুখগহ্বরে স্থাপনা করিয়া প্রবল শক্তিদ্বারা উদর হইতে বাযুবেগ ঊর্ধ্বগতি করিলে হুটাহুট শব্দবাণ নিক্ষিপ[...]

  • বঙ্গবর্ষে চক্রান্তাসুরের সমাগমন কথা

    “হে সর্বজ্ঞানাধিপতি পন্ডিত হুতোম, অদ্য আপনি আমাদিগের সভাস্থলে সমুপস্থিত হইয়া চক্রান্তাসুর চরিত্র বর্ণনা করিয়া আমাদিগকে জ্ঞানলব্ধ করুন। কি কারণে মহারাণী চক্রান্তাসুরের ভয়ে ভীত থাকিলেও প্রজাগণের নিকট তিনি কৌতুকোপাদান হইয়াছিলেন?” যেমন বিন্দুসম জলরাশি একত্রিত হইয়া সিন্ধুরূপ ধারণ করে তদ্রূপ কিঞ্চিত জ্ঞানাহরণ করিয়া জ্[...]

  • গণিতশাস্ত্র অজ্ঞ মহারাণী মমতা

    হে হুতোম পন্ডিত, আপনি আমাদিগের নিকট আবির্ভূত হইয়া মহারাণী মমতার কাব্যবিন্যাস করিয়া কৌতুকরসে আমাদিগকে সিক্ত করিয়াছেন। অদ্য আমাদিগের মানসপটলে আবির্ভূত হইয়া আপনি এই পক্ষকালের কৌতুক বর্ণনা করিয়া আমাদিগকে আনন্দ প্রদান করুন। কি কারণে প্রজাগণ কৌতুক পাইয়াও দুঃখে জীবনযাপন করিত? এই বলিয়া রাজা জনার্দন চক্ষু বিস্ফারিত করি[...]

  • অবিবেচক রাণী মমতা কাকেশ্বর রোগগ্রস্ত হইয়াছিলেন

    হে পন্ডিত হুতোম, আপনি সর্বকালবেত্তা। আপনি সর্বলোকগামী মহাপুরুষ। আপনি আমাদিগের কৌতূহলের একমাত্র নিবারক হইয়া আবির্ভূত হইয়া পুরাকালের ঘটনাবলীর বর্ণনা দ্বারা অহরহ আমাদিগকে মুগ্ধ করিয়াছেন। অদ্য আপনার নিকট পরিশ্রুত হইতে চাই, কি কারণে মহারাণী মমতাকে কাকেশ্বর রোগ গ্রাস করিয়াছে এইরূপ কথিত ছিল? প্রশ্নপর্বের ক্ষণকাল[...]

  • কোপভাজক বৃদ্ধা মহাশ্বেতা কথা

    “হে হুতোম পন্ডিত আপনি আমাদিগের আমন্ত্রণ স্বীকার করুন। আমরা আপনার নিকট শ্রুত হইতে ইচ্ছুক যে কি কারণে অশীতিপর বৃদ্ধা মহাশ্বেতার নিকট রাণী মমতা কুপিত হইয়াছিলেন ও কি প্রয়োজনে বৃদ্ধা ক্রোধাণ্বিত হইয়া বাক্যাগ্নি বর্ষণ করিলেও ক্ষণকাল পরেই মমতার সুখ্যাতিতে পঞ্চমুখ হইয়াছিলেন?” এই বলিয়া রাজা জনার্দন করদ্বয় একত্রিত করিয়া [...]

  • Connect with Facebook
    Sponsors
    Recent Comments